রবিবার, ৬ মে, ২০১২

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারিত্ব সংলাপ


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারিত্ব সংলাপ

ঢাকায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সময় শনিবার দুদেশের মধ্যে যে অংশীদারিত্ব সংলাপ শুরু করার ভিত্তি রচিত হল, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেই সংলাপের প্রয়োজনটা ঠিক কোথায়?
কূটনীতিকরা বলছেন যে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক বেশ কয়েক বছর ধরে বহুমাত্রিকতা পেয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুদেশের অভিন্ন স্বার্থও রয়েছে।
বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতি বছরই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য যেমন বাড়ছে, তেমনই অন্যান্য ক্ষেত্রেও সম্পর্ক গভীর হয়েছে।
আর সাম্প্রতিক সময়গুলোতে সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অন্যতম মিত্র হিসেবেও আবির্ভূত হয়েছে বলে কূটনীতিকদের ধারণা।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ আরো ভালো এক অংশীদার হতে পারে বলে মার্কিনীরা মনে করে এবং সে কারণে বহুমাত্রিক সম্পর্কে একটি কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অংশীদারী সংলাপ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, “এটি হবে এক ধরনের রেগুলার কনসালটেশন মেকানিজম। পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে পৃথিবীর অনেক দেশের সাথে আমাদের এ ধরনের আলোচনা হয়।“
মিঃ কবির জানান যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে ভারত ও বাংলাদেশ সম্প্রতি একটি যৌথ কমিশন গঠন করেছে এবং সেই কমিশনের বৈঠকে যোগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি দিল্লী যাচ্ছেন।
দুই দেশই তাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে পূনর্বিন্যাস করতে চাইছে একটি স্থায়ী কাঠামোর আওতায়
হুমায়ুন কবির, সাবেক রাষ্ট্রদূত
“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এ রকম কোন ব্যবস্থা নেই। সে কারণেই তাদের সাথে একটি কাঠামো তৈরী করা হচ্ছে এই অংশীদারী সংলাপের মাধ্যমে”, - বলেন সাবেক এই কূটনীতিক।
“তাদের যখন কোন অগ্রাধিকারের ব্যাপার ঘটে, তাঁরা আসেন। আমাদের ঘটলে আমরা যাই।”
পৃথিবীর অনেক দেশের সঙ্গেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সংলাপের ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মার্কিনীদের নিরাপত্তার বিষয়টিই অবশ্য মূল বিষয় বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। তবে হুমায়ুন কবির বলেন যে নিরাপত্তার বিষয়টি দু’দেশের জন্যেই গুরুত্বপূর্ণ।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “তাদের কাছে নিরাপত্তার ব্যাপারটি বেশী গুরুত্ব পায়। কিন্তু সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং সেগুলো অব্যাহত রাখা আমাদের জন্যেও গুরুত্বপূর্ণ।”
রাজনীতি নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমস্যা নেই, এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে সন্ত্রাস এমন একটি সমস্যা, যার উত্থান হলে সবার জন্যেই তা ক্ষতিকর।
“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি নিরাপত্তার বিষয়টিতে সবচেয়ে বেশী মনোযোগ দিতে চায়, তাহলে আমাদেরকে আমাদের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে, - বলেন এই কূটনীতিক।”
নিরাপত্তার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বিষয়ে আরো দুটো ক্ষেত্রে আগ্রহী বলে মনে করেন হুমায়ুন কবির। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, পৃথিবী যে পাল্টে গেছে, দুটো দেশই তা স্বীকার করে।
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি পৃথিবীতে বাস করছি যাকে নিউ গ্লোবাল অর্ডার বা এশিয়ান অর্ডার বলা হচ্ছে, যার কেন্দ্রে রয়েছে চীন।”
“এই কাঠামোটা শুধু সামরিক কাঠামো হতে পারে না। সামরিক কাঠামোর পাশাপাশি আরো যে দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তৈরী হয়ে এসেছে, তাহলো রাজনৈতিক অংশীদারীত্ব একং বাণিজ্য।”
মিঃ কবির বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফর এই বিষয়টি প্রমাণ করছে যে সম্পর্ক আরো উন্নত পর্যায়ে উন্নীত হচ্ছে এবং দুটো দেশই বহুমাত্রিক এই সম্পর্ককে পূনর্বিন্যাস করতে চাইছে একটি স্থায়ী কাঠামোর আওতায়।

কোন মন্তব্য নেই: